Mawlid Link

ঈদে মীলাদুন্নবী (সাঃ)

মুহাম্মাদ আইনুল হুদা

watch a mawlid

Write a Comment

Mawlid
Mawlid cd/dvd

Imam

Qastallani
and Mawlid
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

সর্ব শেষ ও সর্ব শ্রেষ্ট নবী রাহমাতুল্লিল আলামীন আহমদ মুজতবা, মুহাম্মাদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দুনিয়াতে আগমন ও বিদায়ের মাস মাহে রবিউল আউয়াল৷ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী ঈমানদারগণ রবিউল আউয়াল মাসকে নবীর জন্মের মাস হিসাবে এই মাসে বিশেষভাবে নবীর জন্মোত্‎সব তথা ঈদে মীলাদুন্নবী উদযাপন করে থাকেন৷ নবীর ওফাত্‎ দিবস পালন করা হয়না কারণ নবী হায়াতুন্নবী, জিন্দানবী৷ নবীর ওফাত্‎ ছিল নিতান্তই সামিয়ক৷ সাধারণ মুসলমানের মৃত্যুতে তার সম্পত্তির মালিকানা বিলুপ্ত হয়ে যায়, স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়৷ কিন্ত্ত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বেলায় তা হয়িন৷ যে কারণে উম্মুল মুমিনিনগণের কোন ইদ্দত ছিলনা৷ এজন্যে বুখারী শরীফের বিশিষ্ট ব্যাখ্যাকার ইমাম ক্বাস্তাল্লানী (রাহঃ)'র অমর খেদমত আল-মাওয়াহিবুল্লাদুন্নিয়্যাহ, এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ যারক্বানী আলালমাওয়াহিব এবং ইমামে আহলে সুন্নাত ইমাম ইউসুফ ইবনে ইসমাঈল নাবহানীর  আল-আনওয়ারুল মুহাম্মাদিয়্যাহ দেখা যেতে পারে৷

রেওয়ায়েতের বিভিন্নতা থাকলেও মশহুর অভিমত হচ্ছে রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ সোমবার সুবহে সাদিকের সময় হুজুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াতে আগমন করেন৷ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ইমামদের মতে নবীর জন্মের রাত লাইলাতুল ক্বদর থেকে উত্তম৷ (আল-আনওয়ারুল মুহাম্মাদিয়্যাহ ২৮)

ঈদে মীলাদুন্নবীর মর্মকথা হচ্ছে আল্লাহর হাবীবের জন্মের আলোচনা করা, নফল ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর জন্মের শুকরিয়া আদায় করা, খুশী প্রকাশ করা৷ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বীদায় বিশ্বাসী ঈমানদারগণ ঈদে মীলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে যে মাহিফলের আয়োজন করেন ঐ মাহফিলে ক্বুরআন তিলাওয়াত, নবীর জন্মের আলোচনা, দুরূদ ও সালাম পাঠ, শির্নী ইত্যাদী একেকটি নফল ইবাদত৷

ভাতিজা মুহাম্মদের জন্মের সংবাদে খুশী প্রকাশ এবং সংবাদ প্রদানের কারণে দাসী আজাদ করার বিনিময়ে জাহান্নামী হওয়া স্বত্তেও প্রতি সোমবার আবু লাহাবের শাস্তি লাঘব করা হয় এবং বিশেষ আঙ্গুল চুষে পানি পান করার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়৷ এই বর্ণনা বুখারী শরীফে রয়েছে৷ ইমাম ইবনুল জাওযী (রাহঃ) এই প্রসংগে বলেনঃ "আবু লাহাব, যাকে তিরস্কার করে ক্বুরআন নাজিল হয়েছে, নবীর জন্মে খুশী প্রকাশ করার কারণে যদি আবু লাহাবের এই অবস্থা হয় তাহলে আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী আল্লাহর হাবীবের কোন উম্মত যদি নবীর জন্মে খুশী প্রকাশ করে এবং সাধ্যমত সদকা-খয়রাত করে তার প্রতিদান কি হতে পারে? ক্বসম আল্লাহর, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে জান্নাত দান করবেন৷"  (আল- আনওয়ারুল মুহাম্মাদিয়্যাহ ২৮/২৯) 

নফল ইবাদতের মাধ্যমে সপ্তাহের প্রতি সোমবার মীলাদুন্নবীর শুকরিয়া আদায় করেছেন স্বয়ং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম৷ মুসিলম শরীফের হাদীসে আছে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সোমবারের রোজা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল৷ হুজুর জবাবে বলেছেন, (সপ্তাহের প্রতি সোমবার রোজা রাখি, কারণ) সোমবার এমন এক দিন যে দিন আমার জন্ম হয়েছিল এবং যে দিন আমার উপর ক্বুরআন নাজিল হয়েছিল৷ (মুসিলম শরীফ)

নবীদের মীলাদ বা জন্মের আলোচনা করা স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সুন্নাত৷ সুরা মারয়ামে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ঈসা (আঃ)এর মীলাদ বা জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা করেছেন, সুরা ক্বাসাসে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মূসা (আঃ)এর মীলাদ বা জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা করেছেন, সুরা আলে ইমরানে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইয়াহয়া (আঃ)এর মীলাদ বা জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা করেছেন, সুরা বালাদে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হুজুরে পাক (সাঃ)এর মীলাদ বা জন্মস্থানের ক্বসম খেয়েছেন, সূরা ফীলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হুজুরে পাক (সাঃ)এর মীলাদ বা জন্ম এবং তাঁর আগমনের উসিলায় কাবা ঘর রক্ষার ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন৷

হুজুরে পাক (সাঃ) নিজে বারবার বিভিন্নভাবে তাঁর জন্মের আলোচনা করেছেন, যার প্রমাণ হাদীস শরীফের কিতাবে ভরপুর৷ দ্বিতীয়বার আক্বীক্বা করে মুসলমানদেরকে আপ্যায়নের মাধ্যমে নিজের জন্মের শুকরিয়া আদায় করেছেন৷ সাহাবায়ে কেরামের যুগেও এই ধারা অব্যাহত ছিল৷

ইমাম নববীর উস্তাজ, উস্তাজুল আইম্মাহ ইমাম আবু শামাহ (রাহঃ)র মতে আল্লাহর হাবীবের জন্ম বৃত্তান্ত বা মীলাদ শরীফ আলোচনার এই ধারাকে একটি আনুষ্ঠানিক রুপ দেন ইমাম শাইখ উমর বিন মুহাম্মাদ আল-মুল্লা, একজন অন্যতম বুজুর্গ ব্যক্তি৷ এবং তাঁকেই অনুসরণ করেছেন এরবল অধিপতি গং৷ (আল-বাইছু আলা ইনকারিল বিদয়ি ওয়াল হাওয়াদিছি, পৃষ্ঠা ২৩-২৪)

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মুসলমানদের কাছে সুলতান নূরুদ্দীন জংগী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বহুল পরিচিত একটি নাম৷ ৫৫৭ হিজরীতে হুজুরের পবিত্র লাশ মুবারক চুরি করতে আসা দুজন খৃষ্ঠানকে পাকড়াও করার জন্য যাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বয়ং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম৷ (ওয়াফাউল ওয়াফা ২/৬৪৮-৬৫০) এই সুলতান নূরুদ্দীন (রাহঃ) ছিলেন ইমাম শাইখ উমর বিন মুহাম্মাদ আল-মুল্লা (রাহঃ)র একজন বিশিষ্ট বন্ধু৷ ইমাম হাফিজ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ইমাম শাইখ উমর বিন মুহাম্মাদ আল-মুল্লা(রাহঃ) সম্পর্কে বলেনঃ

"প্রতি বত্‎সর মাহে মাওলিদে (মাহে রবিউল আউয়াল) তিনি সবাইকে দাওয়াত করতেন৷ তাঁর দাওয়াতে রাজা-বাদশাহ, আমীর-উমার, আলিম-উলামা এবং উজীর-উজারাগণ উপস্থিত হতেন এবং এ উপলক্ষে উত্‎সব করতেন৷ বাদশাহ নুরুদ্দীন জংগী (রাহঃ) ছিলেন উমর বিন মুহাম্মাদ আল-মুল্লা (রাহঃ)র একজন বিশিষ্ট বন্ধু৷" (আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ ১২/২৮২)

পরবর্তীতে ইমাম শাইখ উমর বিন মুহাম্মাদ আল-মুল্লা (রাহঃ) এবং সুলতান নুরুদ্দীন জংগী (রাহঃ)কে অনুসরণ করেন এরবল অধিপতি বাদশাহ মুজাফফার রাহঃ৷ বাদশাহ মুজাফফার সম্পর্কে হাফিজ ইবনে কাছীর বলেনঃ "তিনি রবিউল আউয়াল মাসে মীলাদ শরীফ উদযাপন করতেন এবং বিশাল মাহফিলের আয়োজন করতেন৷ তিনি ছিলেন প্রখর বুদ্ধিমত্তার অধিকারী, সত্‎সাহসী, মহাবীর, আলেম, ন্যায়পরায়ন৷ আল্লাহ তাঁকে রহম করুন এবং তাঁর আবাসকে মহান করুন৷ তাঁর আয়োজিত মীলাদ মাহফিলে নেতৃস্থানীয় উলামা ও বুজুর্গগণ উপস্থিত থাকতেন৷ (আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ ১৩/১৪৭) ইমামে আহলে সুন্নাত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী (রাহঃ)ও তাঁর হুছনুল মাক্বসিদ ফী আমালিল মাওলিদ কিতাবে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন৷

ঐতিহাসিক ইমাম ইবনে খাল্লিকান (রাহঃ) (৬০৮-৬৮১) বাদশাহ মুজাফফার (রাহঃ) সম্পর্কে বলেনঃ " বাদশাহ মুজাফফারের মীলাদুন্নবী মাহফিলের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দেয়া একটি দুরূহ ব্যাপার৷ আমরা এখানে সামান্য উল্লেখ করছিঃ দেশবাসী এই বিষয়ে বাদশাহ মুজাফফারের উত্তম আক্বীদা বা বিশ্বাস এর কথা জানতে পেরেছিলেন, তাই প্রতি বত্‎সর এরবলের পার্শ্ববর্তী অঞ্চল যেমন, বাগদাদ, মাওসিল, জাজিরা, সিনজার, নসীবাইন এবং আজম ও পার্শ্ববর্তী এলাকা সমুহ থেকে অনেক ফক্বীহ, সুফী, ওয়াইজ, ক্বুররা এবং কবিগণ বাদশাহর আয়োজিত মীলাদ মাহফিলে অংশ নিতেন৷ (ওয়াফিয়্যাতুল আ'য়ান ৪/১১৭) বাদশাহ মুজাফফার ছিলেন মহান চরিত্রের অধিকারী, অত্যন্ত বিনয়ী, সরল-সঠিক আক্বীদাওয়ালা, বন্ধুপ্রতিম এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী (৪/১১৯)  

বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার ইমাম ক্বাস্তাল্লানী (রাহঃ) বলেন, মুসলমানগণ যুগ যুগ ধরে ঈদে মীলাদুন্নবী উদযাপন করে আসছেন৷ তিনি আরো বলেন, পরীক্ষা করে দেখা গেছে যেখানে মীলাদ শরীফ হয় পুরা বছরের জন্য ঐ জায়গা নিরাপদ হয়ে যায়৷ (আল-মাওয়াহিব ১ম খন্ড)

মাহফিলে মীলাদুন্নবী (সাঃ) বা অন্য যে কোন মাহফিলে যদি শরীয়ত বিরোধী কোন কার্যকলাপের অনুপ্রবেশ ঘটে তাহলে ঐ শরীয়ত বিরোধী কাজ পরিত্যাজ্য৷ আইম্মায়ে আহলে সুন্নাত এই ব্যাপারে সতর্ক করে বলেছেন মীলাদ মাহফিল ভাল কাজ কিন্ত্ত মীলাদ মাহফিলে যদি শরীয়ত বিরোধী কিছু করা হয় তবে তা বর্জনীয়৷ এখন কেউ যদি এই "বর্জনীয়" শব্দ দেখেই আগাগুড়া না পড়ে বলে যে উনাদের মতে মীলাদ মাহিফলই বর্জনীয় তবে তা হবে নিতান্তই বেইনসাফী৷

 
  প্রকাশঃ সাপ্তাহিক ঠিকানা, নিউইয়র্ক শুক্রবার ২২ এপ্রিল ২০০৫, সাপ্তাহিক বাংলাপত্রিকা, শুক্রবার, এপ্রিল ২৯, ২০০৫  
........................... .............................................................................................................................................................. ....................................