আক্বীদায়ে খতমে নবুওয়াত

মুহাম্মাদ আইনুল হুদা

  ..........................................................................................................................................................  
   

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী মুসলমানদের চুড়ান্ত আক্বীদা হচ্ছে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ প্রেরিত সর্বশেষ নবী এবং তাঁর পরে আল্লাহ প্রেরিত আর কোন নবী নাই৷ শরীয়ত বিহীন নবী, ছায়া নবী কোন নবী নেই আখেরী নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পরে৷ যাকে আক্বীদায়ে খতমে নবুওয়াত বলা হয়৷ এই আক্বীদায় বিশ্বাসীদেরকে মুসলমান বা মুসলিম বলে৷ ক্বুরআন এবং হাদীসে এই আক্বীদা'র পক্ষে অনেক দলীল রয়েছে৷

ক্বুরআন শরীফে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেছেনঃ

" ولكن رسول الله وخاتم النبيين "

" ওয়ালাকির রাসূলাল্লাহি ওয়া খাতামান্নাবিয়্যীন" অর্থাত্‎ "তিনি (মুহাম্মাদ) হচ্ছেন আল্লাহর রাসূল এবং সর্বশেষ নবী" (সূরা আহযাব ৪০)

"খাতামুন্নাবিয়্যীন" এর অর্থ কেউ কেউ করেছেন "সীল অব্‎ দ্যা প্রফেট্‎স বা নবীদের সীল মোহর"৷একই কথা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাধ্যমে নবুওতের দরজা সীল করে দেয়া হয়েছে তাঁর পরে আর কোন নবী নাই বিধায়৷ "খাতামুন্নাবিয়্যীন" এর অর্থ স্বয়ং হুজুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বানী থেকে পরিস্কার হয়ে যায়৷

পবিত্র হাদীস শরীফে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বহুবার বলেছেন আমার পরে আর কোন নবী নাই৷ যেমন বুখারী শরীফ সহ বিভিন্ন হাদীস গ্রন্থে হুজুর এরশাদ করেনঃ

"لاَ نَبِيَّ بَعْدِيْ"

"লা নাবিয়্যা বা'দী" আমার পরে কোন নবী নাই৷ (বুখারীঃ কিতাব আহাদীছুল আম্বিয়া ২১৯৬, কিতাবুল ইমারত ৩৪২৯৷ ইবনু মাজাহঃ কিতাবুল জিহাদ ২৮৬২৷ মুসনাদ ইমাম আহমদ ৭৬১৯)

এখানে "লা" অব্যয়টি লা-এ নফী জিন্‎স, যার কারণে "লা নাবিয়্যা বা'দী" বাক্যটির অর্থ দাঁড়ায় আমার পরে কোন ধরণের নবী নাই৷ ছায়া নবী, শরীয়ত বিহীন নবী, হাফ্‎ নবী, কোয়ার্টার নবী, কোন নবী নাই৷ কোন নবী নাই বিধায় মিথ্যা নবী, ভন্ড নবী মুসায়লামায়ে কাজ্জাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছিলেন স্বয়ং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম৷

অন্যত্র হুজুর বলেছেন " اَنَا آخِرُ الاَنْبِيَاءِ " "আনা আখিরুল আম্বিয়া" অর্থাত্‎ আমি সর্বশেষ নবী৷ (মুসলিমঃ কিতাবুল হাজ্জ ২৪৭১৷ নাসাঈঃ কিতাবুল মাসাজিদ ৬৮৭৷ ইবনে মাজাহঃ কিতাবুল ফিতান ৪০৬৭)

হযরত তুফাইল ইবনে কা'ব তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ
 

নবীদের মধ্যে আমার উদাহরণ হচ্ছে যেমন একব্যক্তি অতি সুন্দর ও পরিপূর্ণ একটি ঘর বানাল তবে একটিমাত্র ইটের জায়গা খালি রেখে দিল, লোকজন বিল্ডিংটি দেখতে এসে অবাক হয়ে বলতে লাগল, হায় যদি এই খালি জায়গায় ইটটি স্থাপন করা হত৷ নবীদের মধ্যে আমার অবস্থান সেই  ইটের মত৷ (তিরমিযীঃ কিতাবুল মানাক্বিব ৩৫৪৬৷ মুসনাদ ইমাম আহমদ ২০২৯১-৯২)

একই হাদীস হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদ্বিঃ) থেকে ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম তিরমিযী, ইমাম আহমদ গং বর্ণনা করেছেন৷ ইমাম মুসলিম ও ইমাম আহমদ এর বর্ণনায় আছে হুজুর বলেছেনঃ  " جِئْتُ فَخَتَمْتُ الاَنْبِيَاءَ " "জি'তু ফাখাতামতুল আম্বিয়া" অর্থাত্‎ আমি শেষ নবী (বুখারীঃ কিতাবুল মানাক্বিব ৩২৭০৷ মুসলিমঃ কিতাবুল ফাদ্বাইল ৪২৪০৷ মুসনাদ ইমাম আহমদ ১৪৩৫৯)

একই হাদীস ইমাম আহমদ অন্য জায়গায় হযরত আবু হুরায়রা (রাদ্বিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন৷ (মুসনাদ ইমাম আহমদ ৭১৭৩)

হযরত আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিঃ) থেকে বর্ণিত হুজুর বলেছেনঃ "আনা খাতামুন্নাবিয়্যীন" আমি সর্বশেষ নবী৷ (মুসলিমঃ কিতাবুল ফাদ্বাইল ৪২৩৯)

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাদ্বিঃ) থেকে ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেন হুজুর এরশাদ করেছেনঃ

إنَّ النَّبُوَّةَ وَ الرِّسَالَةَ انْقَطَعَتْ فَلاَ رَسُوْلَ بَعْدِيْ وَلاَ نَبِي

নবুওত এবং রিসালত (অর্থাত্‎ নবী ও রাসূল আগমনের ধারা আমার মাধ্যমে) ছিন্ন হয়ে গিয়েছে, সুতরাং আমার পরে না কোন রাসূল আছেন, আর না কোন নবী৷ (তিরমিযীঃ কিতাবুররু'য়া ২১৯৮)

সহীহ হাদীসে হুজুর স্পষ্ট বলেছেনঃ " لاَ نُبُوَّةَ بَعْدِيْ " "লা নুবুউওয়াতা বা'দী" অর্থাত্‎ আমার পরে কোন নবুওয়াত নাই৷ (মুসলিমঃ কিতাব ফাদ্বাইলুস সাহাবাহ ৪৪২০৷ তিরমিযীঃ মানাক্বিব ৩৬৫৮৷ মুসনাদ ইমাম আহমদ ১৫২২/২২৬৭৯)

হযরত আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিঃ) থেকে বর্ণিত অপর একটি হাদীসে হুজুর (সাঃ) এরশাদ করেনঃ

ছয়টি কারণে সমস্ত নবীদের উপর আমার ফজিলত বেশী৷ ........ وَ خُتِمَ بِيَ النَّبِيُّوْنَ আমি সর্বশেষ নবী বা আমার মাধ্যমে নবুওত মোহর মেরে দেয়া হয়েছে অর্থাত্‎ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে৷ (মুসলিমঃ কিতাবুল মাসাজিদ ৮১২৷ তিরমিযী ১৪৭৪৷ মুসনাদ ইমাম আহমদ ৮৯৬৯)

হযরত ইরবাদ ইবনে ছারিয়া (রাদ্বিঃ) থেকে বর্ণিত হুজুরে পাক (সাঃ) বলেনঃ

كُنْتُ نَبِيًّا وَاِنَّ آدَمَ لَمُنْجَدِلٌ فِيْ طِيْنَتِه

"আমি তখনও আল্লাহর কাছে সর্বশেষ নবী হিসেবে ছিলাম যখন আদম কাদামাটিতে মিশ্রিত ছিলেন৷" ( মুসনাদ ইমাম আহমদ ১৬৫২৫)

সহীহ বুখারী ও মুসলিমে হযরত জুবাইর ইবনে মুত্বই'ম (রাদ্বিঃ) থেকে বর্ণিত, হুজুর বলেছেনঃ

"আমার কয়েকটি নাম রয়েছে৷ আমি মুহাম্মাদ, আমি আহমদ, আমি মাহী যার মাধ্যমে আল্লাহ কুফুরের মূলোত্‎পাটন করেছেন, আমি হাশির আমার ক্বদমে সমগ্র মানব জাতির হাশর হবে, এবং আমি আক্বিব যার পরে আর কোন নবী নাই৷" (মুসলিমঃ কিতাবুল ফাদ্বাইল ৪৩৪৩৷ বুখারীঃ কিতাবুল মানাক্বিব ৩২৬৮, কিতাব তাফসীরিল ক্বুরআন ৪৫১৭৷ দারিমীঃ কিতাবুর রিক্বাক্ব ২৬৫৬)

ভন্ড নবীদের আবির্ভাবঃ   

মহানবী (সাঃ) এর পর যারাই নবুওতী দাবী করবে তারা ভন্ড, মিথ্যুক ও প্রতারক৷ হযরত ছাওবান (রাদ্বিঃ) থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে মহানবী (সাঃ) এরশাদ করেছেনঃ

"আমার পরে ৩০জন মিথ্যাবাদী নবুওতী দাবী করবে অথচ আমি শেষ নবী, আমার পরে আর কোন নবী নাই৷" (তিরমিযীঃ কিতাবুল ফিতান ২১৪৫৷ আবূদাঊদঃ কিতাবুল ফিতান ওয়াল মালাহিম ৩৭১০৷ মুসনাদ ইমাম আহমদ ২১৩৬১)

হযরত ঈসা (আঃ) এর পূণরাগমনঃ

একথা মুসলিম সমাজে সর্বজন স্বীকৃত যে মহানবী (সাঃ) এর আগমনের পর ঈসা (আঃ) এর নবুওত বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে৷ আমাদের নবী আখেরী নবী যার অর্থ এই ইহজগতে কিয়ামত পর্যন্ত আমাদের নবীর নবুওত অব্যাহত থাকবে৷ কিয়ামতের পূর্বে ঈসা (আঃ) আগমন করবেন না বরং তিনি পূণরাগমন করবেন৷ অন্যকথায় তিনি নতুন কোন নবী হিসাবে আগমন করবেন না৷

কথাটি আরো পরিস্কার করার জন্য একটি উপমা দেয়া যায়৷ প্রেসিডেন্ট বুশের আগমনের পর প্রেসিডেন্ট ক্লিন্টন আর প্রেসিডেন্ট নন৷ প্রেসিডেন্ট বুশের আমলে ক্লিন্টন যদি হোয়াইট হাউসে পূণরাগমন করেন তাহলে প্রেসিডেন্ট বুশের প্রেসিডেন্টশিপ কি ভঙ্গ হয়ে যাবে? না৷ কারণ ক্লিন্টন নো মউর প্রেসিডেন্ট৷

(চলবে)

 
.............................................................................................................................................................