মীলাদ শরীফ কি?

মুহাম্মাদ আইনুল হুদা

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আগমনের সংবাদ দেওয়া৷ সর্বপ্রথম আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মহানবী আগমনের সংবাদ দিয়েছেন নবী রাসুলদের মাহফিলে আত্মার জগতে ইয়াওমুল মীছাক্ব বা অঙ্গিকার  দিবসে৷ (সুরা আলে ইমরানঃ আয়াত৮১)৷

" وَاِذْ اَخَذَ اللهُ مِيْثَاقَ النَّبِيِّيْنَ لَمَا آتَيْتُكُمْ مِنْ كِتَابٍ وَّ حِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَ كُمْ رَسُوْلٌ مُّصَدِّقٌ لِّمَا مَعَكُمْ "

   আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আহলে কিতাবকে মহানবীর আগমনের সংবাদ দিয়েছেন সুরা আল-মাইদায়, আয়াত ১৯৷

 يأهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَ كُمْ رَسُوْلُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيْرًا مِّمَّا كُنْتُمْ تُخْفُوْنَ مِنَ الكِتَابِ وَ يَعْفُوْ عَنْ كَثِيْرٍ  قَدْ جَاءَ كُمْ مِنَ اللهِ نُوْرٌ وَّكِتَابٌ مُّبِيْنٌ

আমাদের মত ঈমানদারদেরকে মহানবীর আগমনের সংবাদ দিয়েছেন সুরা তওবায়, আয়াত ১২৮৷

لَقَدْ جَاءَ كُمْ رَسُوْلٌ مِّنْ اَنْفُسِكُمْ

মহানবীর আগমনের সংবাদ দিয়েছেন আম্বিয়ায়ে কেরাম তাদের উম্মতদেরকে৷ যেমন ঈসা (আঃ) বনী ইসরাইলকে আহমদ নবীর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছেন সুরা সফঃ আয়াত-৬৷

মীলাদ শরীফ কি?

সমগ্র বিশবাসীর  জন্য রহমত ও নিয়ামত হিসেবে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমনের কথা স্বরণ করা, অন্যকে স্মরণ করিয়া দেয়া এবং মানুষের নিকট বণর্না করা৷

আল্লাহ বলেনঃ                      

এবং তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিয়ামতের কথা স্মরণ কর৷(সুরা আলে-ইমরান,আয়াত-১০৩)৷এতদ্ব্যতীত নিয়ামতের কথা মানুষের নিকট বর্ণনা করা, যেমন আল্রাহ বলেনঃ এবং আপনার পালনকর্তার নিয়ামেতর কথা আলোচনা করুন৷(সুরা দ্বোহাঃ ১১) নেয়ামতের জিকির এবং নিয়ামতের আলোচনা করা সমান নয়৷ নিয়ামেতর স্মরণ অন্তরে অন্তরে, নিয়ামেতর আলোচন মাহফিলে মাহফিলে, আলোচনা করেত হলে মাহফিলের প্রয়োজন৷

মীলাদ শরীফ কি?

নিয়ামতের শুকরিয়া স্বরুপ খুশী প্রকাশ কর৷ আল্লাহ বলেন, قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَ بِرَحْمَتِه فَبِذلِكَ فَلْيَفْرَحُوْا

আপনি বলে দিন আল্রাহর অনুগ্রহ ও রহমতের জন্য তারা যেন আনন্দিত হয়৷ (সুরা ইউনুসঃ ৫৮)

মীলাদ শরীফ কি?

নফল ইবাদতের মাধ্যমে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম এর  জন্মের শুকরিয়া আদায় করা যায়৷ আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  প্রতি সোমবার রোজা রেখে, মদীনা শরীফে দ্বিতীয়বার িনেজর আক্বিকা করে তার  জন্মের শুকরিয়া আদায় করা যায়৷

মীলাদ শরীফ কি কুরআন শরীফে  আছে?

এই প্রশ্নের জবাবে আমি একটি প্রশ্ন করেত চাই, মীলাদ শরীফে কি কি আছে?

১. কুরআন শরীফ থেকে তিলাওয়াত, কুরআন শরীফে আছে৷

২. মহানবীর উদ্দেশ্যে সালাত সালাম পেশ, কুরআন শরীফৈ আছ৷(সুরা আহযাব: আয়াত ৫৬)

৩.তাওয়াল্লুদ শরীফ; নবীজির বংশ মর্যাদার আলোচনা, কুরআন শরীফে আছে৷ সুরা তওবাঃ আয়াত ১২৮)

৪. তাওয়াল্লুদ শরীফ মহানবীর জন্মের পুর্বাপর(জন্মবৃত্তান্ত) আলোচনা, অলৌকিক  ঘটনাবলীর বণর্না, কুরআন শরীফে আছ, উপরে আলোচনা করা হয়েছ৷

৫. দাড়িয়ে সম্মানের সাথে সালাম দেয়া, কুরআন শরীফে আছে৷ আল্লাহ বলেছেন "ওয়াসাল্লিমু তাসলীমা"৷ আল্লামা ইউসুফ আলী এর অনুবাদ করেছেন এভাবেঃ "And salute him all respect" "যথাযথভাবে / যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক তাঁকে সালাম দাও"৷

যথাযথ সম্মান প্রদর্শক পুর্বক সালাম দেওয়ার  যত পদ্ধতি একজন মানুষের মাথায় আসতে পারে  তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ পদ্ধতি হচ্ছে দাড়িয়ে সম্মানের সাথে সালাম দেয়া ৷

৬.  দোয়া করা, কুরআন শরীফের বহু জায়গায় আছে৷

মীলাদ শরীফের শুরুতে কুরআন শরীফ থেকে তিলওয়াত করা হয়, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত কি বেদাত? কুরআন শরীফ থেকে তিলাওয়াতের পর মহানবী  সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়াসাল্লাম এর শানে  দরুদ শরীফ পড়া হয়, দরুদ শরীফ পড়া কি বেদাত? দরুদ শরীফের পর আরবীতে নবীজীর জন্ম বৃতান্ত আলোচনা করা হয়, নবীজির জন্ম বৃতান্ত আলোচনা কি  বেদাত? অতঃপর দাড়িয়ে সম্মানের সাথে সালাম দেয়া হয়, দাড়িয়ে  নবীজির উদ্দেশ্যে সালাম দেয়া কি বেদাত? সব শেষে দোয়া করা হয়, দোয়া করা কি বেদাত? কোনটই বেদাত নয়৷  সুতরাং মীলাদ শরীফে যা আছে  সব কুরআন শরীফে আছে, হাদীস শরীফে আছে৷

কুরআন ছাড়া মানিনা কথাটি কতটুকু সঠিক?

যারা বলেন বা যাদের আক্বীদা কুরআন ছাড়া অন্য কিছু মানা যায় না, হাদীছ হচ্ছে মেন মেইড ওরা  কি নিজেদেরকে মুসলমান প্রমাণ করতে পারবেন?

১. ঈমানের কালিমা, কালিমায়ে তাইয়্যিবা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ, কালিমায়ে তাইয়্যিবা হিসাবে একত্রে  কুরআন শরীফের কোথাও নাই৷

২.নামায কুরআন শরীফে আছে, কিন্ত্ কোন ওয়াক্তের নামায কত রাকাত, কিভাবে পড়তে হবে, কুরআন শরীফে নাই৷

৩. যাকাতের কথা কুরআন শরীফে আছে. কিন্ত যাকাত কিভাবে দেব, কতটুকু দেব ইত্যাদি কুরআন শরীফে নাই৷

৪. হজ্জ কুরআন শরীফে আছে , কিন্ত নিয়ম কানুন  কুরআন শরীফে নাই৷

৫. রোজা কুরআন শরীফে আছে, কিন্ত সংশ্লিষ্ট বহু কিছুই কুরআন শরীফে নাই৷

সুতরাং মীলাদ শরীফকে অস্বীকার করতে যেয়ে যে বা যারা বলেন, এটা কি কুরআনে আছে? কুরআনে না থাকলে মানিনা,িকংবা হাদীছ হচ্ছে মেন মেইড তাই ওটা মানা যায় না, ওরা  কিন্ত মারাত্তক বিপদে আছেন৷

আমরা পরস্পর সালাম বিনিময় করি আর রাসুল্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আমরা সালাম জানাই, এ দুটি কাজ কি সমান? আমাদের বেলায় আল্লাহ বলেছেনঃ

যখন তোমাদেরকে সালাম দেয়া হয় তখন তোমরা তা হতে উত্তম(জবাবে শব্দ সংখ্যা বাড়িয়ে, যেমন আসসালামু আলাইকুম এর জবাবে ওয়া আলাইকুমুসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বলে)সালাম দাও অথবা ওটাই ফিরিয়ে দাও (অর্থাত্‎ আসসালামু আলাইকুম এর জবাবে আসসালামু আলাইকুম বা অআলাইকুমুস সালাম বল)৷ (সুরা নিসাঃ আয়াত ৮৬) আর মহানবীর বেলায় আল্লাহ বলেছেনঃ---

তোমরা যথাযথ  সম্মান প্রদর্শন  পুর্বক সালাম দাও৷ (সুরা আহযাবঃ আয়াত ৫৬) সুতরাং সালামে সালামে ব্যবধান আছে৷